নিজস্ব প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম): লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম হয়েও তিনি দল ত্যাগ করেছিলেন কারণ বিএনপিকে রক্ষা করার জন্য ‘চিকিৎসা’র প্রয়োজন ছিল। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ১১ দলীয় জোটের এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
কর্নেল অলি বলেন, "আমি দীর্ঘ সময় বিএনপির সঙ্গে ছিলাম। তবে যখনই বুঝতে পারলাম বিএনপি বেশিদিন বাঁচবে না, তাদের সঠিক নেতৃত্ব ও চিকিৎসার অভাব রয়েছে, সেদিনই আমি দল ত্যাগ করেছি। বর্তমানে বিএনপির দেশ চালানোর সামর্থ্য নেই।"
চট্টগ্রামের আনোয়ারার রাজনৈতিক ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। ১৯০০ সালের ৬ ডিসেম্বর ব্রিটিশ সরকার আনোয়ারা থানা গঠন করে। ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯০৬-এর মুসলিম লীগ গঠন পরবর্তী সময়ে এ অঞ্চলের মানুষ সবসময়ই স্বাধিকার আন্দোলনে সোচ্চার ছিল। ১৯৪৬-এর সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে আনোয়ারা-কর্ণফুলী অঞ্চলের মানুষের বীরত্বগাথা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা। কর্নেল অলি আহমদ নিজেও ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ চট্টগ্রামে প্রথম বিদ্রোহকারী সামরিক কর্মকর্তাদের একজন।
১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বিএনপি গঠিত হওয়ার সময় অলি আহমদ ছিলেন তার প্রধান সহযোগী। তবে ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর তিনি বিএনপি ত্যাগ করে এলডিপি গঠন করেন। ২০২৬ সালের এই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অলি আহমদ পুনরায় আলোচনায় এসেছেন তার ১১ দলীয় জোটের মাধ্যমে। ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় আনোয়ারা আজ এক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
কর্নেল অলি তার বক্তব্যে বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, "বিএনপি এখন ক্ষমতায় গেলে পুনরায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, চট্টগ্রাম বন্দর দখল ও ব্যাংক লুটে মেতে উঠবে। জনগণ তাদের সেই সুযোগ দেবে না।" তিনি আরও বলেন, অনেকেই ১১ দলীয় জোটের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, আমরা ক্ষমতায় গেলে নারী স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করব। কিন্তু আমরা স্পষ্ট করছি—কারো ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় স্বাধীনতায় আমরা হস্তক্ষেপ করব না।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে তিনি প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে এদেশের জনগণ আপনাদের 'ভাতের হোটেল' বন্ধ করে দেবে।"
দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মাওলানা ইসমাঈল হক্কানীর সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জুবায়েরুল আলম মানিক।
জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম, নেজামে ইসলামীর মাওলানা জিয়াউল হুসেইন জিয়া, বাংলাদেশ লেবার পার্টির জুনু মিয়া এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক মুহাম্মদ ইব্রাহিমসহ জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
সূত্র: নিজস্ব প্রতিবেদক, যুগান্তর অনলাইন আর্কাইভ, বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেসক, স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিবেদন ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের লড়াইটি এখন বহুমুখী। কর্নেল অলি আহমদের সরাসরি আক্রমণাত্মক বক্তব্য বিএনপির দীর্ঘদিনের ভোট ব্যাংকে ফাটল ধরাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ১৯০০ সাল থেকে যে আনোয়ারা ব্রিটিশ শাসন ও পরবর্তী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, ২০২৬-এ সেই জনপদ এখন নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের সাক্ষী হতে যাচ্ছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |